মাননীয় মহোদয়,
গতকাল রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মা ও শাহবাগ এলাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীদের ওপর পুলিশের বর্বরোচিত ও নিন্দনীয় হামলার ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত, ক্ষুব্ধ ও উদ্বিগ্ন। একটি সভ্য ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশ ও কর্মসূচির ওপর এ ধরনের দমন-পীড়ন কখনোই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।
সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার—বিশেষ করে শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মতপ্রকাশ ও প্রতিবাদের অধিকার—রক্ষার দায়িত্ব রাষ্ট্রের। অথচ আমরা দেখেছি, নিরস্ত্র ও শান্তিপূর্ণ নেতাকর্মীদের ওপর অতর্কিত লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল ও বলপ্রয়োগ করা হয়েছে, যা স্পষ্টতই মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। এই ধরনের আচরণ শুধু একটি রাজনৈতিক মঞ্চ বা সংগঠনের ওপর আঘাত নয়; এটি রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক চেতনা ও আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।
মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা, আপনার নেতৃত্বে দেশ একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা করে। সেই প্রত্যাশার আলোকে আমরা মনে করি—
১. এই ঘটনার একটি নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত অবিলম্বে গঠন করতে হবে।
২. হামলার জন্য দায়ী পুলিশ সদস্য ও নির্দেশদাতাদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বলপ্রয়োগ বন্ধে সুস্পষ্ট নির্দেশনা জারি করতে হবে।
৪. আহত নেতাকর্মীদের যথাযথ চিকিৎসা ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে।
রাষ্ট্র যদি নাগরিকের কণ্ঠ রোধ করতে চায়, তবে তা কখনো স্থিতিশীলতা আনে না—বরং সংকটকে আরও গভীর করে। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, দমন-পীড়নের পথ কখনো টেকসই সমাধান নয়। গণতন্ত্রের সৌন্দর্য ভিন্নমতের সহাবস্থানে, লাঠির আঘাতে নয়।
রাজাপুর-কাঁঠালিয়া উন্নয়ন ফোরাম বিশ্বাস করে—আপনি একজন বিবেকবান রাষ্ট্রনায়ক হিসেবে এই ঘটনার ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবেন এবং দেশবাসীর আস্থা পুনরুদ্ধারে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন।
নিবেদক,
মাওলানা মোঃ আবু ইউসুফ
সভাপতি
রাজাপুর-কাঁঠালিয়া উন্নয়ন ফোরাম