জয়নগর থানার আই সি সমরেশ ঘোষের তত্ত্বাবধানে ধোষাহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলরাম মন্ডল নিজ হাতে ও নেতৃত্বে মাধ্যমিক পরীক্ষাথীদের হাতে বাল্যবিবাহ সচেতন মুলক লিপলেট তুলেদিলেন

 

মোমিন আলি লস্কর জয়নগর:-
দক্ষিণ ২৪পরগনা জুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বেড়েছে বাল্যবিবাহের পরিমাণ। এই সমস্যার সমাধান করতে এবার কোমর বেঁধে নামল জেলা প্রশাসন। বুধবার ধোষা চন্দশ্বর অঞ্চলের ধোষা নবীন চাঁদ হাইস্কুলে মাধ্যমিক পরীক্ষার কেন্দ্র স্তলে উপস্থিত ছিলেন ধোষা হাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলরাম মন্ডল। আজ মাধ্যমিক ছাত্র-ছাত্রীদের পরীক্ষা শেষ। আর এই পরীক্ষার শেষে দেখতে পাওয়া গেল ধোষাচন্দশ্বর নবীন চাঁদ হাইস্কুলের কাছে জয়নগর থানার আই সি নেতৃত্বে ধোষাহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলরাম মন্ডল তিনি বাল্যবিবাহ রুকতে মাধ্যমিক পরীক্ষাথীদের এবং উপস্থিত অভিভাবক বৃন্দের হাতে সচেতন হোন, রুখে দিন বাল্যবিবাহ বাল্যবিবাহকে না বলুন কন্যার উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ুন,ও শিক্ষা-শিশুর অধিকার, জাতির ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও সম্ভাবনা এ বিষয় একটি সচেতন মুলক লিপলেট বিতরন করেন।এই লিপলেট শুধুমাত্র ধোষা নবীন চাঁদ হাহস্কুলে বিতরন হয়নি, জয়নগর থানার আইসি সমরেশ ঘোষের নেতৃত্বে ধোষাহাট পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ বলরাম মন্ডল নিজ হাতে ধোষানবীন চাঁদ হাইস্কুলের এই লিপলেট তুলেদেন মাধ্যমিক ছাত্র-ছাত্রীদের ও অভিভাবকদের হাতে। বলরাম মন্ডলের তত্ত্বাবধানে চালতাবেড়িয়া হাইস্কুলে এই লিপলেট ছাত্রী-ছাত্রীদের হাতে তুলেদেন ঐ স্কূলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক প্রদীপ নস্কর সহ পুলিশ আধিকারিকরা।এই সচেতন মুলক কাজ দেখে সাধারণ মানুষ ও অভিভাবক এবং স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের উৎসাহ প্রভাত পড়ে। অভিভাবকরা পুলিশের এমন কাজ দেখে বাহুবহ দিতে থাকেন।প্রশাসনের তরফে বাল্য বিবাহ রোধে তথ্যচিত্র ভিডিও তৈরি করা হয়েছে। সেই ভিডিও মানুষের সামনে তুলে ধরা হবে। ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বাল্যবিবাহ রোধের জন্য সচেতনতামূলক প্রচার চালাবে প্রশাসন। এছাড়া জেলার প্রত্যন্ত এলাকাতেও বসানো হবে বিশেষ সাইনবোর্ড। সেই সাইনবোর্ডে বিভিন্ন ভাষায় থাকবে জেলা শিশু হেল্পলাইন নম্বর (১০৯৮ ও ১১২)। একইসঙ্গে বাল্যবিবাহ রোধে ব্যবস্থা না নিলেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে প্রশাসনের তরফে। প্রশাসনের আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, জেলায় বাল্য বিবাহের পরিমাণ এক বছরে দশ হাজারের বেশি। আগামী অর্থবছরে সেই সংখ্যা তলানিতে নিয়ে আসার জন্য শপথ নেওয়া হচ্ছে।জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সচেতনতামূলক প্রচার চালাচ্ছে কন্যাশ্রীরা। জেলায় তিনশোর বেশি এলাকা চিহ্নিত করে সাইন বোর্ড বসানো হচ্ছে। কোনও নাবালক বা নাবালিকাকে জোর করে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা হলে ওই হেল্পলাইন নম্বরে ফোন করলে মিলবে সুফল।আমাদের যেকোনও উপায়ে বাল্য বিবাহের পরিমাণ কমাতেই হবে। সকলকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।
কিন্তু এত চেষ্টার পরেও কেন নাবালিকা বিয়ের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না, এনিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, বেশিরভাগ ব্লকে বাল্য বিবাহের সমস্যা রয়েছে। ধীরে ধীরে প্রতিবছর বাল্য বিবাহ আটকানোর পরিমাণ বাড়ছে। ব্লক প্রশাসনের আধিকারিকদেরও বাল্য বিবাহ রোধে বাড়তি সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। তবে নাবালক ও নাবালিকাদের বাড়ির সদস্যদের সচেতন হতে হবে। এছাড়া ছোটদের স্মার্ট ফোনের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করতেই হবে অভিভাবকদের। নাহলে এই সমস্যা দিন দিন বাড়বে।ধোষা এলাকার একজন বাসিন্দা বলেন, এত কিছু করেও বিশেষ লাভ হবে না। এর সঙ্গে জুড়ে আছে বিভিন্ন দলের নেতৃত্বরা। যদি বিভিন্ন দলের নেতৃত্বেরা একই সঙ্গে মিলেমিশে কাজ কর তাহলে এই সমস্যা সমাধান হবে।

শেয়ার করুনঃ