মো: তানজিম হোসাইন
শিক্ষক জাতির বিবেক। অথচ এই বিবেকের রাখালরাই বছরের পর বছর অবহেলা আর বৈষম্যের শিকার। এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যেন রাষ্ট্রের অনাদৃত সন্তান। তাদের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে শিক্ষার হার বাড়ছে, নতুন প্রজন্ম আলোকিত হচ্ছে—কিন্তু তাদের ন্যায্য প্রাপ্য আজও ‘নীতিগত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায়’।
শিক্ষক সমাজের চলমান আন্দোলন তাই নিছক ক্ষোভ নয়, বরং বাঁচার দাবি। ২০% বাড়িভাড়া, ন্যূনতম ১৫০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা—এগুলো কি বিলাসিতা, নাকি মৌলিক প্রাপ্য? যখন সরকারি চাকরিজীবীরা নানা সুবিধায় সুরক্ষিত, তখন শিক্ষকদের বঞ্চনা স্পষ্ট বৈষম্যের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
আমলাতন্ত্রের ঘূর্ণিপাকে পড়ে আন্দোলনের দাবিগুলো বারবার আড়ালে চলে গেলেও শিক্ষকরা হাল ছাড়েননি। রাজপথের সমাবেশ, কর্মসূচি, প্রতিজ্ঞাবদ্ধ কণ্ঠস্বর—সবই বলে দিচ্ছে, এবার তারা পিছু হটার নয়।
ইতিহাস সাক্ষী, যে আন্দোলন হৃদয়ের ক্ষত থেকে জন্ম নেয়, তা দীর্ঘকাল চাপা পড়ে থাকে না, ঝড়ে রূপ নেয়। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের আন্দোলনও কি সেই অবধারিত ঝড়ের ইঙ্গিত নয়? রাষ্ট্র কি এবারও অপেক্ষা করবে অগ্নিগর্ভ বিস্ফোরণের? নাকি অন্তত একবার শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি মেনে তাদের মুখে হাসি ফোটাবে?
এ প্রশ্নের উত্তর না আসা পর্যন্ত শিক্ষক আন্দোলনের কণ্ঠ থামবে না—বরং আরও জোরালো হবে।