আবু রাসেল সুমন
পার্বত্যঞ্চল প্রতিনিধি :খাগড়াছড়ি
স্কুলছাত্রী ধর্ষণের ঘটনায় প্রশাসনের দেয়া ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে অবরোধের নামে সৃষ্ট সহিংসতায় খাগড়াছড়ি ও গুইমারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
হত্যা, ভাঙচুর, পুলিশের ওপর হামলা ও ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে দাঙ্গা সৃষ্টির অভিযোগে খাগড়াছড়ি সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে ৬০০ থেকে ৭০০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামী করে ১ অক্টোবর মামলা দায়ের করা হয়েছে। বুধবার দুপুরে খাগড়াছড়ি সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শাহরিয়ার এ মামলা করেন।
অপরদিকে সরকারি কাজেবাধা, অগ্নিসংযোগ, লুটতরাজ,সেনাবাহিনী ও পুলিশের উপর হামলাসহ মানুষ হত্যার অভিযোগে গুইমারা থানায় এস আই সোহেল রানা বাদী হয়ে অজ্ঞাত ২৫০-৩০০ জনকে আসামী করে ১ সেপ্টেম্বর পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল বাতেন মৃধা জানান, ২৭ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়ি পৌর সভার মহাজন পাড়া, স্বনির্ভর ও সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সংঘর্ষে লিপ্ত হওয়ার ঘটনায় খাগড়াছড়ি সদর থানায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা করেছে। এ মামলায় ৬০০-৭০০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
গুইমারা থানার অফিসার ইনচার্জ, মো. এনামুল হক চৌধুরী জানান, ২৮ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টা থেকে বিকালে ৪টা পর্যন্ত গুইমারা উপজেলা প্রশাসনের জারি করা ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে অবরোধকারীরা অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর লুটপাটসহ
সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায় এবং পরবর্তীতে ধানক্ষেত থেকে তিন ব্যক্তি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় দুই থেকে আড়াই’শ জনকে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
এদিকে শিক্ষার্থী ধর্ষণের অভিযোগে আটক শয়ন শীলকে ৬ দিনের রিমান্ড শেষে বুধবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়। খাগড়াছড়ি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য,গত শনিবার জুম্ম ছাত্র-জনতা’র ডাকা অবরোধের নামে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি করে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে প্রশাসনের দেয়া ১৪৪ ধারা ভঙ্গ, অগ্নি সংযোগ, দাঙ্গা ও হত্যার ঘটনা ঘটে।