তাঁতীলীগ নেতাকে ‘ওসির ছত্রছায়ায়’ ছেড়ে দেওয়া, একই রাতে সাংবাদিক গ্রেফতার, উখিয়ায় তীব্র সমালোচনা

 

ফরিদ আলম সিকদার (কক্সবাজার)

বিশেষ অভিযানের সময় উপজেলা তাঁতীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দীন সিকদারকে আটক করার পর রহস্যজনকভাবে ছেড়ে দিয়েছে উখিয়া থানা পুলিশ। অথচ একই রাতে স্থানীয় প্রতিবাদী সাংবাদিক তানভীর শাহরিয়াকে নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ঘটনায় এলাকায় তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

জানা যায়, ২৯ সেপ্টেম্বর (সোমবার) রাত ১১টার দিকে উখিয়া উপজেলা সদর থেকে টহল পুলিশ সালাউদ্দীন সিকদারকে আটক করে। তবে কিছুক্ষণ পরই তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, উখিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হকের প্রত্যক্ষ মদদে সালাউদ্দীনকে মুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্বস্ত সূত্রের দাবি, সালাউদ্দীনের ভাই বিএনপি রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তার প্রভাব ও সুপারিশে ওসি কৌশলে তাঁতীলীগ নেতাকে ছেড়ে দেন।

উখিয়া থানা পুলিশের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “সালাউদ্দীনকে আটক করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং হাতে ক্যানোলা লাগানো ছিল। তাই তাকে পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।”

অন্যদিকে, রাত ২টার দিকে উপজেলার ফলিয়াপাড়া এলাকার নিজ বাড়ি থেকে তানভীর শাহরিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এলাকায় তিনি একজন প্রতিবাদী ও অনুসন্ধানী সাংবাদিক হিসেবে পরিচিত। সহকর্মীদের দাবি, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।

উখিয়ার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক মোহাম্মদ সোহেল ইসলাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তানভীরের ছবি দিয়ে লিখেছেন,

আপনি হাসিনার দেওয়া ১১টা মামলার আসামি। আপনি ১৬ বছর ধরে সীমান্ত জনপদের সম্রাট বদি ও জাহাঙ্গীর কবির চৌধুরীর বিরুদ্ধে কলম হাতে লড়ে গেছেন। ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানেও ছিলেন কলম সৈনিক। আপনাকে সহযোদ্ধা বলতাম, কিন্তু আপনাকে রক্ষা করতে পারলাম না,ক্ষমা করবেন।

এই ঘটনায় উখিয়ায় সাংবাদিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন, প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এলাকায় অবাধে ঘোরাফেরা করলেও কেন একজন সাংবাদিককে গ্রেফতার করা হলো?

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি জিয়াউল হক প্রথমে সালাউদ্দীনকে ছেড়ে দেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করলেও পরে স্বীকার করে বলেন, তিনি অসুস্থ ছিলেন, তাই পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।সাংবাদিক তানভীরকে গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি দাবি করেন, তিনি এজাহারনামীয় আসামি।” তবে একজন রাজনৈতিক নেতাকে ছেড়ে দিয়ে একজন সাংবাদিককে গ্রেফতারের বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

শেয়ার করুনঃ