বিশেষ প্রতিনিধি | মোঃ মাহবুব আলম
ঢাকা: আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ঢাকা-১৭ আসনসহ সারা দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা চলছে। ভোটারদের মধ্যে ধারণা, এবারের নির্বাচনে ধানের শীষ ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। তবে জনপ্রিয়তার বিচারে ধানের শীষ এগিয়ে রয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
বিশেষ করে ঢাকা-১৭ আসনকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে বাড়তি আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কারণ এই আসনে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এই আসনে তারেক রহমানসহ মোট ১১ জন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। স্থানীয়দের মতে, জনপ্রিয়তার দিক থেকে তারেক রহমান শীর্ষ অবস্থানে রয়েছেন।
ঢাকা-১৭ আসন গুলশান, বনানী, ক্যান্টনমেন্ট ও ভাষানটেক এলাকা নিয়ে গঠিত। এই আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩১ হাজার ৩৮১ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫১৬ জন এবং নারী ভোটার ১ লাখ ৫৭ হাজার ৮৬৫ জন। মোট ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১২৪টি।
এলাকাবাসীর দাবি, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি প্রায় ২৪০টি আসনে বিজয় অর্জন করে সরকার গঠন করতে পারে।
ঢাকা-১৭ আসনের প্রচার উপকমিটির সমন্বয়ক রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, “তারুণ্যের প্রতীক জনাব তারেক রহমান দেশে ফিরে গত ২৫ ডিসেম্বর ঢাকার তিনশ ফিট এলাকায় বক্তব্য দেওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে শুরু করেছে। তিনি বিভাগীয় শহরসহ বিভিন্ন জেলায় একের পর এক নির্বাচনী জনসভা করেছেন। এসব জনসভায় দেওয়া বক্তব্য জনগণের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।”
তিনি আরও বলেন, “বিশেষ করে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ এবং ফ্যামিলি কার্ড প্রদানের প্রতিশ্রুতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তার বক্তব্যে আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা, ন্যায়বিচার, মৌলিক অধিকার, সমতা ও বৈষম্যহীন সমাজ গঠনের অঙ্গীকার ফুটে উঠেছে।”
রিয়াজ উদ্দিন আহমেদের দাবি, ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যের কারণে বিভিন্ন ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব ও আলেম সমাজের সমর্থনও বিএনপির দিকে ঝুঁকছে। তিনি বলেন, “এর ফলে ধর্মকে বিকৃত করার অভিযোগ থাকা রাজনৈতিক দলগুলো কোণঠাসা হয়ে পড়ছে।”
তিনি আরও মন্তব্য করেন, “ঢাকা-১৭ আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ডা. খালেদুজ্জামান জামানত হারাতে পারেন। ইনশাআল্লাহ, ধানের শীষের বিজয়ের মধ্য দিয়ে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠিত হবে।”
এলাকার ভোটারদের সঙ্গেও কথা বলে জানা যায়, ধানের শীষ প্রতীকের প্রতি তাদের আবেগপূর্ণ সমর্থন রয়েছে। জমিরুন্নেছা নামে এক নারী ভোটার বলেন, “তারেক রহমান আমাদের এই এলাকার সন্তান। ছোটবেলা থেকেই তিনি এখানে বড় হয়েছেন। তার বিকল্প কেউ হতে পারে না।”
সরেজমিনে অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে অর্থের বিনিময়ে ভোট নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগ তুলছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে জনগণের মতামত উপেক্ষা করে ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এর মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের আশঙ্কার কথাও প্রকাশ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ডা. খালেদুজ্জামানের বক্তব্যের সঙ্গে স্থানীয় অভিযোগগুলোর মিল রয়েছে বলে এলাকাবাসীর দাবি।
আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে ঢাকা-১৭ আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমেই বাড়ছে, আর এর ফলাফল ঘিরে দৃষ্টি এখন সারা দেশের মানুষের।