মোঃ শিহাব উদ্দিন গোপালগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি :
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ডুমদিয়া মৌজায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) অধিগ্রহণকৃত জমিতে অবৈধভাবে বালু ও মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে প্রশাসন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সরকারি জমি দখলমুক্ত করা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ডুমদিয়া মৌজার জে.এল নং–৪০-এর অন্তর্ভুক্ত এস.এ দাগ নং–৯২৪ এবং হাল/বিআরএস দাগভুক্ত বাপাউবো’র অধিগ্রহণকৃত জমিতে অনুমতি ছাড়াই বাঁধের কিনারায় বালু ও মাটি ভরাট করে স্থাপনা নির্মাণের কাজ চলছিল। বিষয়টি সরকারি সম্পত্তি বেদখলের শামিল হওয়ায় চারজন ব্যক্তিকে অবৈধ কার্যক্রম বন্ধের জন্য নোটিশ প্রদান করা হয়।
নোটিশপ্রাপ্তরা হলেন—হরিদাসপুর পশ্চিম পাড়া এলাকার মোঃ নাজমুল শেখ (পিতা: কবুর শেখ), মোঃ তরিকুল ইসলাম (পিতা: নাওসের শেখ), মোঃ মাসুদ শেখ (পিতা: ইদ্রিস শেখ) এবং বারাইল (ডুমদিয়া) গ্রামের মোঃ মনির মুন্সী (পিতা: মৃত মাছেম মুন্সী)।
নোটিশে উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কার্যক্রম ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন–২০২৩ এর ধারা ১১, পরিবেশ সংরক্ষণ আইন, ১৯৯৫ (সংশোধিত ২০১০) এবং বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর সরাসরি লঙ্ঘন। অবৈধ ভরাট ও নির্মাণ কাজ অবিলম্বে বন্ধ করে মালামাল অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হলেও সংশ্লিষ্টরা তা অমান্য করে কাজ চালিয়ে যান।
এরই প্রেক্ষিতে আজ ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল আনুমানিক ১০টায় গোপালগঞ্জ জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথ অভিযানে অবৈধভাবে দখলকৃত জমি উচ্ছেদ করে দখলমুক্ত করা হয়। অভিযানে বালু-মাটি ভরাট বন্ধসহ অবৈধ স্থাপনার কার্যক্রম সম্পূর্ণভাবে অপসারণ করা হয়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সরকারি জলাধার, বাঁধ ও নদী রক্ষা প্রকল্পের জমিতে কোনো ধরনের অবৈধ দখল, ভরাট কিংবা নির্মাণ কার্যক্রম কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকাবাসী প্রশাসনের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে সরকারি সম্পত্তি ও বাঁধ সুরক্ষায় নিয়মিত নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।