স্টাফ রিপোর্টার :: সাম্প্রতিক বেনাপোল স্থলবন্দরে ঘোষণা বর্হিভূত যশোরের সামিরা ট্রেডিং এর টু হুইলার মোটরপার্সের পণ্যচালান আটকের ঘটনায় ফের আলোচনায় আসে স্টেশনটিতে শুল্ক ফাঁকি চক্রের দৌরাত্ব বৃদ্ধিতে সরকারের রাজস্ব হারানোর কথা। সাথে ওঠে এসেছে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে দুই বৎসরের অধিক সময় ধরে কর্মরত রাজস্ব কর্মকর্তা মনিউরের নানা অনিয়ম দূর্নীতি চিত্র। আমদানি পণ্য চালান খালাস নিতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে প্রবেশরত আমদানিকারক প্রতিনিধিদের দাখিলকৃত ফাইল আটকিয়ে ঘুস আদায়ে হয়রানী করারা অভিযোগ রয়েছে। যদিও তিনি মুঠো ফোনে প্রতিবেদক কে জানান তার বিরুদ্ধে পত্র পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ২৫ জাতীয় দৈনিক সকালের সময় এ প্রকাশিত “ বেনাপোল বন্দরে থামছেনা শুলাক ফাঁকির মচ্ছব” শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনের সূত্র ধরে রাজস্ব কর্মকর্তা মনিউরের কর্মকান্ডের বিষয়ে স্টেশনটিতে ব্যাপক অনুসন্ধান চালালে চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে যা চক্ষু-চড়ক গাছ।
মনিউর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করেই ১ বছরের অধিক সময় ধরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ন শাখার( আই আর এম) রাজস্ব কর্মকর্তা হিসাবে বহাল থেকে ঘুস বানিজ্যের মাধ্যমে হাতিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। নিজ ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই অসাধু কর্মকর্তা ৭/৮ টি সিএন্ড এফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠানকে (ওভারসীস ট্রেডিং,তৃণা এসোসিয়েট, নীরা এন্টারপ্রাইজ,জারিনএন্টার প্রাইজ,ওমর এন্ড সন্স,আলী কদর এন্ড কোং,আমেনা এন্টার প্রাইজ ) বড় অঙ্কের উৎকোচের বিনিময়ে নিয়ম বর্হিভূত সুবিধা দিয়েছেন যার ফলে সরকার কোটি কোটি টাকার রাজস্ব বঞ্চিত হয়েছে।
গত ৩ সেপ্টেম্বর বেনাপোল বন্দর হতে আমদানি পণ্য খালাসের জন্য বেনাপোল কাস্টমসে ফাইল দাখিল করেন ওভারসিস ট্রেডিং কর্পারেশন যাহার বি/ই নং-সি,৬৮৬১৯। ঐ দিনই পণ্য চালানটি আই আর এম কর্তৃক পরীক্ষন হয়।এই পণ্য চালানটির পরীক্ষনের দায়িত্বে ছিলেন মনিউর বলে জানা গেছে। খালাশ পক্রিয়ার শেষ পর্যায়ে এই পণ্য চালানটি গোয়েন্দা সংস্থার দেওয়া তথ্য মতে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ পুনরায় পরীক্ষন করলে ঘোষণা বর্হিভূত ১৭২১ কেজি ওজনের মোটরপার্স পাওয়া যায়। এ ঘটনায় পণ্য চালাটির ধার্য্যকৃত শুল্ক মূল্য ছাড়াও অতিরিক্ত ১৪লাখ৫১হাজার৯১৮ টাকা জরিমানা আদায় করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বে অবহলোর জন্য কোন পদক্ষেপে নেইনী কাস্টমস কর্তৃপক্ষ।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বেনাপোল কাস্টমস হাউসে কর্মরত ব্যাক্তি জানান,এনজিও আখতারের দিয়ে বিভিন্ন সি এন্ড এফ এজেন্টের কাছ হতে অবৈধ্য ঘুসের টাকা কালেকশান করতো মনিউর আর বিনিময়ে পণ্য চালান না দেখেই ফাইলে সই করে তা শুলাকায়নে পাঠাতো ফলে ভুল শুল্ক ধার্য্যে সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হলেও রাতারাতি ফুলে ফেঁপে ওঠতো আমদানিকারক ওসহযোগী সি এন্ড এফ এজেন্ট প্রতিষ্ঠান। জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ও বিজিবির দেওয়া তথ্য ভিত্তিতে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কর্তৃক আটক হওয়া পণ্য চালানগুলো পর্যালোচনা করলেই রাজস্ব কর্মকর্তা মনিউরের অনিয়ম-দূর্নীতির ফিরিস্তি বেরীয়ে পড়বে বলে সূত্রটির দাবী।
এবিষয়ে এনজিও আখতারের নিকট জানতে চাইলে তিনি মুঠোফোনে রাজস্ব কর্মকর্তা মনিউরের অধীনে কাজ করার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন বিগত এক মাস ধরে চাকরি না থাকায় আমি কাস্টমস হাউসে প্রবেশ করিনা।
দীর্ঘ বৎসর ধরেই বেনাপোল স্থলবন্দরে আমদনি কারক,সিএন্ডএফ এজেন্ট ও অসাধু কাস্টমস কর্মকর্তা পরষ্পর যোগসাজশে সরকারী রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে আমদানি পণ্য খালাস নিচ্ছে।বেনাপোল কাস্টমস হাউসের নবাগত কাস্টমস কমিশনার যোগদানের পর হতে কাস্টমস হাউস হতে বহিরাগত (এনজিও)অপসারণসহ স্টেশনে শৃঙ্খলা ফেরাতে বিবিধ পদক্ষেপ হাতে নেওয়া তা বাস্তবায়ন করায় কিছুটা ধরাশায়ী শুল্ক ফাঁকি কাজে জড়িতরা।বেনাপোল স্থলবন্দরে গড়ে ওঠা শক্তিশালী শুল্ক ফাঁকি চক্রের সহযোগী হিসাবে পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত খবরে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের রাজস্ব কর্মকর্তা মনিউরের নাম ওঠে আসলেও এখনো পর্যন্ত অসাধু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কার্যত কোন পদক্ষেপ নেইনী।
দূর্নীতিগ্রস্থ রাজস্ব কর্মকর্তা মনিউরের বিরুদ্ধে বিষয়ে জানতে বেনাপোল কাস্টমস হাউসের কমিশনারের ব্যবহৃত টেলিফোন নাম্বারে কল করে সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যাইনী।