মোঃ নাঈম উদ্দীন
কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি
দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা।
কৃষকদের হাতে-কলমে আধুনিক কৃষি পদ্ধতি পৌঁছে দিতে এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে “কৃষিই সমৃদ্ধি ২০২৫-২৬” অর্থবছরে যশোর অঞ্চলে টেকসই কৃষি সম্প্রসারণ প্রকল্পের আওতায় দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর একটি গুরুত্বপূর্ণ অবহিতকরণ, পরিকল্পনা ও মূল্যায়ন কর্মশালার আয়োজন করে।
আজ ২৪ সেপ্টেম্বর, বুধবার নাটুদহ ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালাটি ছিলো এলাকার কৃষকদের জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচনের মতো। এতে শত শত কৃষকের পাশাপাশি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরাও উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, খামারবাড়ি, চুয়াডাঙ্গার উপ-পরিচালক, কৃষিবিদ জনাব মোঃ মাসুদুর রহমান সরকার।
তাঁর সাবলীল ও তথ্যবহুল বক্তব্যে তিনি কৃষকদের হৃদয়ে এক নতুন আশার সঞ্চার করেন। তিনি বলেন, “কৃষিই আমাদের প্রাণ। বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশে কৃষিকে উন্নত করতে না পারলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।”
তিনি জোর দেন আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারের উপর, যেমন- উন্নত জাতের বীজ, সারের পরিমিত ব্যবহার, এবং পরিবেশবান্ধব কীটনাশক প্রয়োগ।
তিনি কৃষকদের উদ্দেশে বলেন, “আমরা আপনাদের পাশে আছি। আপনাদের যেকোনো সমস্যায় আমাদের কাছে আসবেন। আমরা আপনাদের পাশে দাঁড়িয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করব।”
তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন ভর্তুকি ও প্রণোদনা প্যাকেজ রয়েছে, যা কৃষকদের উৎপাদন খরচ কমাতে সাহায্য করবে।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার। তিনি বলেন, “আমাদের কৃষি বিভাগ সবসময় কৃষকদের সেবায় নিয়োজিত।
আমরা চাই আপনারা নতুন নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত হোন এবং সেগুলোকে নিজেদের কাজে লাগান।”
তিনি কৃষকদেরকে ফসলের রোগ-বালাই প্রতিরোধে সঠিক ব্যবস্থা গ্রহণ, মাটির উর্বরতা রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে ফসল ফলানোর কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা দেন।
তিনি আরও বলেন যে, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নিয়মিতভাবে কৃষকদের জন্য প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং মাঠ দিবস আয়োজন করছে, যা কৃষকদের জ্ঞান ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে।
কর্মশালায় নাটুদহ ইউনিয়নের প্রায় একশ’রও বেশি কৃষক অংশগ্রহণ করেন। তারা সরাসরি কর্মকর্তাদের কাছে তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন।
কৃষকদের পক্ষ থেকে সার ও বীজের সহজলভ্যতা, সেচ ব্যবস্থার উন্নতি, এবং ফসলের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার জন্য আবেদন করা হয়।
কর্মকর্তারা মনোযোগ সহকারে তাদের কথা শোনেন এবং সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন। কৃষকদের প্রশ্ন-উত্তর পর্বটি ছিলো কর্মশালার অন্যতম আকর্ষণীয় অংশ।
প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি কৃষকদের সঙ্গে এক অন্তরঙ্গ আলোচনায় মিলিত হন। তারা কৃষকদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও কর্মশালা আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন।
কৃষকদের মাঝে প্রকল্পের লিফলেট ও তথ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়। এই কর্মশালাটি কেবল একটি আলোচনা সভা ছিল না, বরং এটি ছিল কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন তৈরির প্রথম পদক্ষেপ।
স্থানীয় কৃষকরা মনে করেন, এই ধরনের উদ্যোগ তাদের কৃষিকাজকে আরও লাভজনক এবং টেকসই করে তুলবে।