চুয়াডাঙ্গায় আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট–২০২৬ সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করার লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গায় জেলা প্রশাসন এবং সকল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আজ মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২:৩০ ঘটিকায় চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় আসন্ন নির্বাচনে ভোটারদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগের পরিবেশ তৈরি করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্বারোপ করা হয়।

বিশেষ করে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং বিজিবি’র মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলার বিষয়ে বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারা যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের রূপরেখা তৈরি করেন।

সভায় প্রধান দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং উপস্থিত ছিলেন:

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাহীদুর রহমান ওসমানী, ওএসপি, এনডিসি, পিএসসি; কমান্ডার, সদর দপ্তর ২১ পদাতিক ব্রিগেড। মোহাম্মদ কামাল হোসেন, জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার, চুয়াডাঙ্গা।

মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার, চুয়াডাঙ্গা।
আহমেদ আলী, জেলা নির্বাচন অফিসার, চুয়াডাঙ্গা।
এছাড়া সভায় জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, র‍্যাব (RAB), বিজিবি (BGB), এনএসআই (NSI) এবং নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত থেকে নিজ নিজ বাহিনীর কর্মপরিকল্পনা পেশ করেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, “একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে প্রশাসন বদ্ধপরিকর। ভোটাররা যাতে ভয়ভীতিহীন চিত্তে কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য কেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হবে।”

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাহীদুর রহমান ওসমানী আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রশাসনের সাথে সমন্বিতভাবে কাজ করে শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে।

সভায় মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর জোর দেওয়া হয়:

সমন্বিত টহল: নির্বাচন পূর্ববর্তী ও পরবর্তী সময়ে জেলা জুড়ে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও বিজিবি’র সমন্বিত টহল বৃদ্ধি করা।

গোয়েন্দা নজরদারি: নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোনো গোষ্ঠী যেন গুজব বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে, সেজন্য এনএসআই ও ডিবি’র নজরদারি বাড়ানো।

দ্রুত বিচার ব্যবস্থা: নির্বাচনী অপরাধ নিয়ন্ত্রণে জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের অধীনে ভ্রাম্যমাণ আদালতের সক্রিয়তা নিশ্চিত করা।

পরিশেষে, সভায় অংশগ্রহণকারী সকল কর্মকর্তা চুয়াডাঙ্গা জেলাকে একটি আদর্শ নির্বাচনী এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

শেয়ার করুনঃ