চুয়াডাঙ্গায় ডিবি’র জালে কুখ্যাত নারী মাদক কারবারি! উদ্ধার হলো ২৬০ পিস প্যাথেড্রিন ইনজেকশন

মোঃ নাঈম উদ্দীন
কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি
দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গা জেলাকে মাদকমুক্ত করার অঙ্গীকার নিয়ে মাঠে নেমেছে জেলা পুলিশ। সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব খন্দকার গোলাম মওলা, বিপিএম-সেবা মহোদয়ের কঠোর দিকনির্দেশনায় জেলা জুড়ে পরিচালিত বিশেষ মাদক ও চোরাচালান বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে এবার বিপুল পরিমাণ নেশাজাতীয় প্যাথেড্রিন ইনজেকশনসহ এক নারী মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করেছে জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)।

এই উদ্ধার অভিযানটি জেলা পুলিশের চলমান “জিরো টলারেন্স” নীতিরই একটি অংশ, যা জেলার অভ্যন্তরীণ মাদক সরবরাহ চেইনকে ভেঙে দেওয়ার জন্য পরিচালিত হচ্ছে। পুলিশ সুপার মহোদয় ইতোমধ্যেই জেলার সকল ইউনিটকে মাদকের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ও তৎপর হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

লোকনাথপুর থেকে গ্রেফতার
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আজ শুক্রবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৫ তারিখ সন্ধ্যা ১৮:২০ ঘটিকায় জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি বিশেষ দল অভিযানে নামে।

ডিবি’র উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ তোরগুল হাসান সোহাগ-কে বাদী করে গঠিত চৌকস দলটির অন্য সদস্যরা ছিলেন এএসআই(নিঃ) মোঃ আরিফুল ইসলাম, এএসআই(নিঃ) মোঃ মোত্তালেব হোসেন এবং সঙ্গীয় ফোর্স।

অভিযান দলটি চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা থানাধীন লোকনাথপুর পূর্বপাড়াস্থ জনৈক শাকিল মিয়ার বাড়ির সামনের পাঁকা রাস্তার ওপর কৌশলগত অবস্থান গ্রহণ করে।

কিছুক্ষণ পরই মাদক বিক্রির উদ্দেশ্যে ওই এলাকায় আসা নারী কারবারি মোছাঃ লাবনী খাতুন (৩০)-কে হাতেনাতে আটক করা হয়। মোছাঃ লাবনী খাতুন গাতিরপাড়া (জয়রামপুর) গ্রামের লাবলুর কন্যা বলে জানা গেছে।

উদ্ধার হলো ২৬০ পিস প্যাথেড্রিন ইনজেকশন আটককৃত লাবনী খাতুনের দেহ তল্লাশি করে তাঁর হেফাজত থেকে ২৬০ (দুইশত ষাট) পিস নেশাজাতীয় প্যাথেড্রিন ইনজেকশন উদ্ধার করা হয়।

প্যাথেড্রিন সাধারণত শিরায় গ্রহণ করা এক প্রকার শক্তিশালী মাদক, যার অপব্যবহার সমাজে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অপরাধ সৃষ্টি করে। বাজার মূল্য অনুযায়ী উদ্ধারকৃত মাদকের পরিমাণও বেশ উল্লেখযোগ্য।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই ইনজেকশনগুলো জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে যুব সমাজের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল লাবনী খাতুনের।

ডিবি পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, এই নারী মাদক কারবারি দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে গোপনে মাদক সরবরাহ করে আসছিলেন এবং তিনি স্থানীয় মাদক চক্রের একজন সক্রিয় সদস্য।

দামুড়হুদা মডেল থানায় মামলা
গ্রেফতারের পর নিয়ম অনুযায়ী জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয় এবং উদ্ধারকৃত প্যাথেড্রিন ইনজেকশনগুলো জব্দ করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামী মোছাঃ লাবনী খাতুন (৩০)-এর বিরুদ্ধে দামুড়হুদা মডেল থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা (ধারা উল্লেখ করে, যদি জানা থাকে) রুজু করা হয়েছে।

আগামীকাল তাকে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হবে। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই সফল অভিযান জেলার মাদক নির্মূল কার্যক্রমে আরও গতি আনবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শেয়ার করুনঃ