মোঃ নাঈম উদ্দীন
কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি
দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা।
চুয়াডাঙ্গায় সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সার পাচার ও কালোবাজারি রোধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
গত রোববার (১৭ আগস্টের পর) জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম।
সভায় অনিয়মকারী ডিলারদের ডিলারশিপ বাতিলসহ বিভিন্ন কঠোর শাস্তির প্রস্তাব করা হয়।
সভায় জেলার বর্তমান সার পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার জানান, বর্তমানে জেলায় পর্যাপ্ত সার মজুদ আছে। ১৭ আগস্ট পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, ইউরিয়া সারের মজুদ ৩ হাজার ৫০২ মেট্রিক টন, টিএসপি ৬২৭ মেট্রিক টন, এমওপি ১ হাজার ৪২৪ মেট্রিক টন এবং ডিএপি ১ হাজার ৩০৬ মেট্রিক টন। এই মজুদ কৃষকদের চাহিদা মেটাতে যথেষ্ট বলে জানানো হয়।
তবে সভার মূল ফোকাস ছিল সার পাচার ও অনিয়ম রোধ। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার শংকরচন্দ্র ইউনিয়নের বিসিআইসি সার ডিলার ‘হাবিবুর ট্রেডার্স’-এর সার পাচারের অভিযোগ ওঠে। এই অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির ডিলারশিপ বাতিলের প্রস্তাব করা হয়।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার নিশ্চিত করেন যে, হাবিবুর ট্রেডার্সের লাইসেন্স বাতিলের জন্য বিসিআইসির কাছে সুপারিশ পাঠানো হবে এবং বিসিআইসি সিদ্ধান্ত নিলে তাদের লাইসেন্স বাতিল হয়ে যাবে। এর ফলে, ওই এলাকায় নতুন কাউকে লাইসেন্স দেওয়া হবে।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, “কোনো ডিলারকে যদি ২ হাজার টাকাও জরিমানা করা হয়, তবে তার সারের ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।” তার এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট হয় যে, ছোটখাটো অনিয়মের ক্ষেত্রেও প্রশাসন কোনো ছাড় দেবে না।
কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় এবং সার সরবরাহ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া, সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় যে অক্টোবর মাস থেকে হাবিবুর ট্রেডার্সের সারের বরাদ্দ স্থগিত করা হবে।
সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা এবং কৃষি খাতের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অতিরিক্ত জেলা মৎস্য অফিসার আবুল কালাম আজাদ, জেলা প্রাণিসম্পদ অফিসার সাহাবুদ্দিন, অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (শস্য) কৃষ্ণ রায় এবং চার উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ।
এছাড়াও, বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি হাজী আলী আকবর এবং সাধারণ সম্পাদক আব্দুর বারী উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সাংবাদিকতার প্রতিনিধিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি রাজীব হাসান কচি ও সাধারণ সম্পাদক বিপুল আশরাফ।
জেলায় সার ব্যবস্থাপনায় কোনো প্রকার অনিয়ম সহ্য করা হবে না এবং কৃষকের অধিকার রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর।
অনিয়মকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে তাদের ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।