মোঃ নাঈম উদ্দীন
কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি
দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা।
চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দশমী পাড়ায় গলায় ফাঁস দিয়ে শামীম (৪৫) নামের এক ভ্যানচালকের আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
আজ রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) ভোর ৬টার দিকে নিজ বাড়িতেই তিনি আত্মহত্যা করেন। পরিবারের দাবি, সকালে ঘুম থেকে উঠে তারা তাকে ঘরের আড়ার সঙ্গে দড়িতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান।
তবে, স্থানীয়দের মধ্যে কানাঘুষা চলছে যে এই আত্মহত্যার পেছনে পারিবারিক কলহ একটি বড় কারণ হতে পারে।
নিহত শামীম দামুড়হুদার দশমীপাড়ার মৃত জান মোহাম্মদের ছেলে। তিনি পেশায় একজন ভ্যানচালক হলেও পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে স্থানীয় বাসস্ট্যান্ডে একটি ফলের দোকানেও কাজ করতেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শামীম গত কয়েকদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। তবে, কী কারণে তিনি এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি তারা।
সকালে ঘুমন্ত পরিবারের সদস্যরা আকস্মিক শব্দে জেগে ওঠেন। তারা শামীমের ঘরে গিয়ে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখে চিৎকার শুরু করেন।
প্রতিবেশীরা ছুটে এসে দড়ি কেটে তাকে দ্রুত নিচে নামান। এরপর স্থানীয় এক গ্রাম্য চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হলে তিনি তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
খবর পেয়ে দামুড়হুদা মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হুমায়ুন কবির এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
তারা শামীমের পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় পুলিশ আইনি প্রক্রিয়া শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে।
তবে, ওসি হুমায়ুন কবির নিশ্চিত করেছেন যে থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা (ইউডি কেস) রেকর্ড করা হয়েছে।
নেপথ্যে কি পারিবারিক কলহ?
যদিও পরিবার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ জানায়নি, স্থানীয় কিছু সূত্র বলছে, শামীমের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিনের পারিবারিক কলহ চলছিল।
আর্থিক টানাপোড়েনকে কেন্দ্র করে তাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। প্রতিবেশীরা জানান, আত্মহত্যার আগের রাতেও তাদের মধ্যে প্রচণ্ড কথা-কাটাকাটি হয়।
ধারণা করা হচ্ছে, সেই কলহের জেরেই শামীম এমন চরম সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে, পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা হয়নি।
এই ঘটনা দামুড়হুদা দশমীপাড়ায় গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। শামীমের মৃত্যুতে তার পরিবার ও স্বজনরা এখন শোকে কাতর।