মোঃ নাঈম উদ্দীন
কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি
দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা।
জীবননগর উপজেলা জামায়াতে ইসলামী তাদের ৫ দফা দাবি বাস্তবায়ন ও আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পিআর (Proportional Representation) পদ্ধতিতে অনুষ্ঠানের দাবিতে এক বিশাল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করে।
গত ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫ রোজ শুক্রবার ২টা ৫০ মিনিটের দিকে জীবননগর শহরে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা সাজেদুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা মহি উদ্দিন বলেন, “আমরা কেন্দ্রীয় সংগঠনের সাথে একাত্মতা ঘোষণা করে ৫ দফা দাবি বাস্তবায়ন চাই।
যদি এই দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হয়, তবে আমরা ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হব।”
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা হাফিজুর রহমান আগামী সংসদ নির্বাচন নিয়ে জামায়াতের অবস্থানের কথা তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, “আমরা আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জুলাই সনদের ভিত্তিতে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন চাই। যদি তা না হয়, তাহলে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশে যে কোনো নির্বাচন মেনে নেবে না।”
সমাবেশে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নায়েবে আমির হাফেজ বেলাল হোসেন ও মো. সাখাওয়াত হোসেন, উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আবু বকর সিদ্দিক, উপজেলা প্রচার ও আইটি সম্পাদক মো. হারুন অর রশীদ, পৌর আমির মাওলানা ফিরোজ হোসেন, উপজেলা যুব বিভাগের সভাপতি মো. মাজেদুর রহমান লিটন।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন উপজেলা শাখার সেক্রেটারি মো. মাহফুজুর রহমান। এছাড়াও উপজেলা শাখার সকল কর্মপরিষদ সদস্যসহ অন্যান্য নেতারা সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি জীবননগর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে অংশ নেওয়া জামায়াত কর্মীরা তাদের দাবির পক্ষে স্লোগান দেন এবং সরকারের প্রতি অবিলম্বে দাবি পূরণের আহ্বান জানান।
দলীয় সূত্র মতে, কেন্দ্রীয়ভাবে জামায়াতে ইসলামীর উত্থাপিত ৫ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন, আমীরে জামায়াতসহ সকল নেতাকর্মীর মুক্তি, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং সভা-সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করা।
জীবননগরের এই কর্মসূচি মূলত এই বৃহত্তর আন্দোলনেরই অংশ।
জামায়াতের এই সমাবেশ ও মিছিলকে ঘিরে জীবননগর শহরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে ছিল।