দর্শনায় দুর্গাপূজা: উৎসবের আবহে সম্প্রীতির অনন্য বার্তা দিলেন জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা

মোঃ নাঈম উদ্দীন
কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি
দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা।

শারদীয় দুর্গাপূজার মহালগ্নে দর্শনার পূজামণ্ডপগুলোতে যখন উৎসবের রঙ আর আরতির সুর মিশে একাকার, ঠিক তখনই সাম্প্রদায়িক সৌহার্দ্যের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করল জেলা প্রশাসন।

গতকাল সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে চুয়াডাঙ্গার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ দর্শনার সর্বজনীন পূজামণ্ডপগুলো পরিদর্শন করেন, যার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল দর্শনা সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গামাতা মন্দির।

​প্রশাসনিক এই পরিদর্শনে শুধু নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ নয়, বরং সকল ধর্মের মানুষের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও ভালোবাসার বার্তা দেওয়াই ছিল মূল উদ্দেশ্য।

​মণ্ডপে মণ্ডপে উৎসবের রং, প্রশাসনে স্বস্তির সুর ​সন্ধ্যার পর দর্শনার পথে পথে ছিল আলোর ঝলকানি আর মণ্ডপগুলোতে ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়।

এই আনন্দময় পরিবেশে যখন অতিথিরা মন্দিরে প্রবেশ করেন, তখন এক উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পূজামণ্ডপ কমিটির পক্ষ থেকে তাঁদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানানো হয়।

​পরিদর্শনকালে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এডিসি জেনারেল) মাহাবুবুল আলম পূজার সার্বজনীন আবেদন তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্যে শুধু প্রশাসনিক কর্তব্য নয়, ছিল গভীর মানবিক আবেদন।

তিনি বলেন, ​“এই সম্মিলিত, সৌহার্দ্যপূর্ণ আচরণ আমাদের যে শিক্ষা দেয়, সেটি কোনো নির্দিষ্ট তিথি বা পর্বের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়—এটি সার্বজনীন। আমরা শুধু এই পূজা-পার্বণেই নয়, বরং সারাজীবন যেন এই অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রাখতে পারি, সেটাই আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত।”

​তাঁর এই বক্তব্য উপস্থিত সর্বস্তরের মানুষের মাঝে গভীরভাবে অনুরণিত হয়।
​এই পরিদর্শনের মাধ্যমে এটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে যে, জেলায় শান্তিপূর্ণ পূজা উদযাপনের জন্য প্রশাসন সর্বোচ্চ সতর্ক।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল আল নাসের-এর উপস্থিতি নিরাপত্তার বিষয়টি আরও সুনিশ্চিত করে।
​অতিথিদের তালিকায় আরও ছিলেন চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, দর্শনা পৌর প্রশাসক মো. তাসফিকুর রহমান এবং দর্শনা পৌর বিএনপির প্রধান সমন্বয়ক হাবিবুর রহমান বুলেট।

বিভিন্ন মতাদর্শ ও পেশার এই বিশিষ্টজনদের একই মঞ্চে উপস্থিত হওয়া অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক দারুণ প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।

​পূজামণ্ডপ কমিটির সভাপতি, সম্পাদকসহ স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ভক্তবৃন্দ এবং গণ্যমান্যরা এই অনুষ্ঠানকে সফল করে তোলেন। মিল্টন কুমার সাহার সাবলীল সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানটি এক আনন্দঘন পরিবেশে শেষ হয়।

​প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের এমন উদ্যোগ দর্শনার মানুষকে আশ্বস্ত করে যে, উৎসবটি কেবল ধর্মীয় নয়, এটি সকলের অংশগ্রহণে এক বৃহত্তর সামাজিক মিলনক্ষেত্র—যেখানে নিরাপত্তা ও সম্প্রীতি হাত ধরাধরি করে চলে।

শেয়ার করুনঃ