বাংলাদেশ পুলিশের অধস্তন কর্মকর্তা/কর্মচারীদের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত: দক্ষতা ও শৃঙ্খলার মানদণ্ড যাচাই

 

মোঃ নাঈম উদ্দীন
কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি
দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা।

দক্ষতা, পেশাদারিত্ব এবং শৃঙ্খলার মানদণ্ড যাচাইয়ের লক্ষ্যে আজ, ১৪ অক্টোবর ২০২৫ খ্রি: তারিখে চুয়াডাঙ্গা পুলিশ লাইন্স প্যারেড গ্রাউন্ডে বাংলাদেশ পুলিশের অধস্তন কর্মকর্তা/কর্মচারীগণের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষা ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

কনস্টেবল হতে নায়েক, নায়েক হতে এএসআই (সশস্ত্র) এবং এএসআই (সশস্ত্র) হতে এসআই (সশস্ত্র) পদে পদোন্নতির জন্য এই গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

সকাল ১০:০০ ঘটিকায় শুরু হওয়া এই পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যদের টার্ন আউট (পোশাক ও পরিচ্ছন্নতা), চাকুরির খতিয়ান বিশ্লেষণ, ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং প্যারেড পরীক্ষা—এই চারটি ধাপে তাদের সামগ্রিক যোগ্যতা মূল্যায়ন করা হয়।

পদোন্নতি প্রত্যাশী পুলিশ সদস্যদের জন্য এই পরীক্ষা ছিল তাদের দীর্ঘদিনের পেশাগত অভিজ্ঞতা ও প্রশিক্ষণের প্রতিফলন দেখানোর এক সুবর্ণ সুযোগ।

বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার এই গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমে সভাপতির দ্বায়িত্ব পালন করেন চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার জনাব খন্দকার গোলাম মওলা, বিপিএম-সেবা।

তাঁর নেতৃত্বে পরীক্ষা বোর্ড অত্যন্ত স্বচ্ছতা ও কঠোর শৃঙ্খলার সঙ্গে পরীক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করে।

এ সময় পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব ফয়সাল মাহমুদ, চুয়াডাঙ্গা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) জনাব মোঃ মিনহাজ-উল-ইসলাম এবং পুলিশ লাইন্স চুয়াডাঙ্গার আরআই খন্দকার রুহুল আমিন।

বোর্ডের সম্মানিত সদস্যগণ নিবিড়ভাবে অংশগ্রহণকারীদের টার্ন আউট, প্যারেডে দক্ষতা এবং ব্যক্তিগত সাক্ষাৎকারে তাদের পেশাগত জ্ঞান ও নেতৃত্ব গুণাবলি মূল্যায়ন করেন।

এবারের বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষায় চুয়াডাঙ্গা জেলায় সর্বমোট ২৩ জন পুলিশ সদস্য বিভিন্ন পদে পদোন্নতির জন্য অংশগ্রহণ করেন।

পদ অনুযায়ী অংশগ্রহণকারীদের সংখ্যা নিম্নরূপ:

কনস্টেবল হতে নায়েক পদে: ১৫ জন

নায়েক হতে এএসআই (সশস্ত্র) পদে: ০১ জন

এএসআই (সশস্ত্র) হতে এসআই (সশস্ত্র) পদে: ০৭ জন

এই বিভাগীয় পদোন্নতি পরীক্ষার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশ পুলিশের নিম্নস্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মধ্য থেকে যোগ্য, দক্ষ এবং সুশৃঙ্খল সদস্যদের উচ্চতর পদে উন্নীত করা।

এর মাধ্যমে বাহিনীর সাংগঠনিক কাঠামোকে আরও শক্তিশালী করা এবং পেশাদারিত্বের মান উন্নত করা সম্ভব হয়। প্যারেড পরীক্ষা শৃঙ্খলার গুরুত্ব তুলে ধরে, টার্ন আউট পরিচ্ছন্নতা ও পেশাদার ভাবমূর্তি নিশ্চিত করে এবং সাক্ষাৎকার তাদের মানসিক ও ব্যবহারিক প্রস্তুতি যাচাই করে।

চাকুরি খতিয়ান বিশ্লেষণে তাদের অতীত কর্মজীবনের রেকর্ড ও সততা বিবেচনা করা হয়।
চুয়াডাঙ্গা জেলার পুলিশ সুপার (সভাপতি) মহোদয় উল্লেখ করেন,

এই পদোন্নতি পরীক্ষা কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি পুলিশ সদস্যদের কর্মোদ্দীপনা বৃদ্ধি এবং জনসেবামূলক কাজে আরও বেশি মনোনিবেশ করার জন্য প্রেরণা যোগাবে।

তিনি পদোন্নতি প্রত্যাশী সকল সদস্যের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করেন।

পরীক্ষা শেষে অংশগ্রহণকারী পুলিশ সদস্যগণ সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং তারা মনে করেন এই প্রক্রিয়া তাদের পেশাগত জীবনে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

এই সফল পরীক্ষার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীতে যোগ্য নেতৃত্ব বিকাশের পথ আরও সুগম হলো।

শেয়ার করুনঃ