মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
উৎসবমুখর পরিবেশ, কঠোর নিরাপত্তা আর ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতির মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬।
আজ বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই জেলার কেন্দ্রগুলোতে ভোটারদের দীর্ঘ সারি লক্ষ্য করা গেছে। নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে সকাল ৭:৩০ ঘটিকা থেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্র সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ কামাল হোসেন এবং পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম।
সকাল থেকেই চুয়াডাঙ্গা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন প্রশাসনের শীর্ষ এই দুই কর্মকর্তা। তারা দায়িত্বরত প্রিজাইডিং অফিসার ও নিরাপত্তা কর্মীদের সাথে কথা বলেন এবং ভোটারদের সাথে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন জানান, “একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দিতে জেলা প্রশাসন বদ্ধপরিকর। ভোটাররা যাতে কোনো বাধা ছাড়াই কেন্দ্রে আসতে পারেন, সে জন্য আমরা প্রতিটি স্তরে নিবিড় পর্যবেক্ষণ চালাচ্ছি। এখন পর্যন্ত জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।”
ভোটকেন্দ্র পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে কথা বলেন।
তিনি নির্বাচনের সার্বিক আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন:
“ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট গ্রহণ চলছে। আমরা পূর্বেই আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় ব্রিফিং দিয়েছি। ভোটারগণ যেন কোনো প্রকার ভয়-ভীতি বা সংকোচ ছাড়াই তাদের পবিত্র ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সেটিই আমাদের মূল লক্ষ্য।”
পুলিশ সুপার আরও নিশ্চিত করেন যে, যেকোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর পরিস্থিতি রুখতে জেলাজুড়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত রয়েছে:
বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিজিবি (সীমান্তবর্তী ও কৌশলগত এলাকায়)।
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। পর্যাপ্ত সংখ্যক পুলিশ ও আনসার সদস্য। বিশেষায়িত ডিবি পুলিশের টিম। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্ট্রাইকিং ফোর্স ও মোবাইল টিম।
পুলিশ সুপার উপস্থিত সাধারণ ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলেন, ভোটকেন্দ্রের ভেতরে ও বাইরে নিরাপত্তা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। তিনি সকল ভোটারকে নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শীতের সকাল উপেক্ষা করে নারী ও তরুণ ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রবীণ ভোটারদের জন্য বিশেষ সহায়তার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রশাসনের এই তদারকি এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানে সাধারণ ভোটারদের মাঝে স্বস্তি বিরাজ করছে।
বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট গ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত এবং পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর এই টহল অব্যাহত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।