চুয়াডাঙ্গায় জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা: ডিঙ্গেদহ বাজারে ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠিত

মোঃ নাঈম উদ্দীন
কার্পাসডাঙ্গা প্রতিনিধি
দামুড়হুদা, চুয়াডাঙ্গা।

জনগণের দোরগোড়ায় পুলিশি সেবা পৌঁছে দেওয়া, সমাজের প্রান্তিক মানুষের প্রত্যাশা শোনা এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করার লক্ষ্যে আজ ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫, বৃহস্পতিবার বিকেলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানাধীন ডিঙ্গেদহ বাজারে এক ‘ওপেন হাউজ ডে’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়াডাঙ্গার সুযোগ্য পুলিশ সুপার জনাব খন্দকার গোলাম মওলা, বিপিএম-সেবা।

​এ ধরনের ব্যতিক্রমী উদ্যোগের ফলে সাধারণ মানুষ সরাসরি পুলিশ প্রশাসনের কাছে তাদের সমস্যাগুলো তুলে ধরার সুযোগ পায়।

অনুষ্ঠানে আগত ভুক্তভোগী জনসাধারণ খোলাখুলিভাবে বিভিন্ন বিষয়ে তাদের অভিযোগ ও সমস্যার কথা পুলিশ সুপারের কাছে তুলে ধরেন।

তাদের অভিযোগগুলো মনোযোগ সহকারে শোনেন পুলিশ সুপার এবং তাৎক্ষণিকভাবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের সমস্যা সমাধানে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

এর ফলে সমস্যার দ্রুত সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হয় এবং জনগণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বৃদ্ধি পায়।

​অনুষ্ঠানে বক্তারা জনগণের প্রতি পুলিশের দায়বদ্ধতার কথা তুলে ধরেন। তারা বলেন, পুলিশ জনগণের সেবক হিসেবে সবসময় মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে।

সমাজের বিভিন্ন অপরাধ যেমন— মাদক, মানবপাচার, জুয়া, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং এবং অন্যান্য সমাজবিরোধী কর্মকাণ্ড প্রতিরোধের জন্য পুলিশ একাই নয়, বরং ছাত্রসমাজ এবং সাধারণ জনগণেরও সক্রিয় অংশগ্রহণ প্রয়োজন।

​পুলিশ সুপার তার বক্তব্যে বিশেষভাবে অনলাইন জুয়া ও মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, মাদক বিক্রেতা ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে কোনো আপস নেই।

জনগণের প্রতি তিনি অনুরোধ জানান, মাদক ও যেকোনো অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য দিয়ে পুলিশকে সহযোগিতা করার জন্য।

​অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জনাব মোঃ খালেদুর রহমানসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

এছাড়া, কমিউনিটি পুলিশিংয়ের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় সাংবাদিক, এবং বিভিন্ন পেশার অসংখ্য সাধারণ মানুষ এই আয়োজনে অংশ নেন।

জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে, পুলিশ ও জনগণের পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গঠন করা সম্ভব।

এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে পুলিশ এবং জনগণের মধ্যকার দূরত্ব কমে আসে এবং জনবান্ধব পুলিশিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হয়।

শেয়ার করুনঃ