🖋️ মোস্তাক আহমেদ বাবু | রংপুর,
🔴 ধানক্ষেতে কিশোরের মরদেহ, ছয় দিনের মাথায় পুলিশের চমকপ্রদ তদন্ত
রংপুরের পীরগাছা উপজেলার পশ্চিম ব্রাহ্নিকুন্ডা এলাকায় এক ধানক্ষেত থেকে মাসুদ মিয়া (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। প্রথমদিকে ‘রহস্যজনক মৃত্যু’ হিসেবে দেখা হলেও, মাত্র ছয় দিনের মধ্যে পুলিশের তৎপর তদন্তে সামনে আসে এক পূর্ব- পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের নির্মম বাস্তবতা।
📌 ঘটনাপ্রবাহ এক নজরে
📅 ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
পীরগাছার ৫নং ছাওলা ইউনিয়নের ফারুক মিয়ার ধানক্ষেতে স্থানীয়রা একটি মরদেহ দেখতে পান। পুলিশে খবর দিলে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার করে পীরগাছা থানা পুলিশ। মৃতদেহটি শনাক্ত হয় স্থানীয় কিশোর মাসুদ মিয়া হিসেবে।
প্রথমে এটি দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু মনে হলেও, তদন্তে ধীরে ধীরে খুলে যায় হত্যাকাণ্ডের জট।
👮♂️ পুলিশের সাফল্য: ৬ দিনের তদন্তে চার আসামি গ্রেফতার
পীরগাছা থানার এসআই মোঃ শফিকের নেতৃত্বে দ্রুত তদন্ত শুরু হয়। মাত্র ছয় দিনেই চারজনকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেয়া হয়। এরপর ১৬৪ ধারায় একজন আসামির স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে খোলাসা হয় ঘটনার মূল পরিকল্পনা ও জড়িতদের নাম।
📋 গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তরা:
১. মোঃ রিয়াদ হোসেন রকি (১৯)
পিতা: মোঃ আঃ মালেক | মাতা: মোছাঃ রঞ্জিনা বেগম রিনা
২. মোঃ গাউসুল আজম হিরণ (২৫)
পিতা: মোঃ বুদা মিয়া | মাতা: মোছাঃ গোলেনুর বেগম
৩. মোছাঃ রঞ্জিনা বেগম রিনা (৪০)
স্বামী: মোঃ আঃ মালেক | মাতা: মোছাঃ রাবেয়া বেগম
৪. মোছাঃ লুফা আক্তার (১৮)
স্বামী: মোঃ রিয়াদ হোসেন রকি
🔸 অতিরিক্ত তথ্য: মামলায় আরও তিনজন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহায়তার অভিযোগ রয়েছে। তাদের শনাক্তে কাজ করছে পুলিশ।
🧑🤝🧑 এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ
স্থানীয়দের অভিযোগ, অভিযুক্ত রঞ্জিনা বেগম রিনা বহু বছর ধরে এলাকায় অপরাধচক্র গড়ে তুলেছেন। তার বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ব্যবসা, মামলা বাণিজ্য, সুদ ব্যবসা ও চাঁদাবাজির একাধিক অভিযোগ।
🗣️ এক প্রতিবেশী বলেন:
> “ওনারা সাধারণ মানুষকে ভয় দেখিয়ে টাকাপয়সা হাতিয়ে নেয়। গ্রামের নিরীহ মানুষ তার ভয়ে মুখ খুলতেও পারে না। মাসুদ তো একেবারে নিরীহ ছিল—সেও রেহাই পেল না।”
🔹 রঞ্জিনা বেগমের ছেলে রিয়াদ এলাকায় একজন মাদকাসক্ত ও বেপরোয়া যুবক হিসেবে পরিচিত বলে জানা গেছে।
⚖️ আদালতে স্বীকারোক্তি, পুলিশের প্রেস ব্রিফিং
📆 ২৪/২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৫
রিমান্ড শেষে চার আসামিকে রংপুর জেলা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কৃষ্ণ কমল রায়ের আদালতে উপস্থাপন করে পুলিশ।
এ সময় ২নং আসামি মোঃ গাউসুল আজম হিরণ আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। এতে উঠে আসে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনা, উদ্দেশ্য ও জড়িতদের ভূমিকা।
📆 ২৭ সেপ্টেম্বর, পীরগাছা থানায় আনুষ্ঠানিক প্রেস ব্রিফিং-এ পুলিশ জানায়, বাকিদের বিরুদ্ধেও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে চার অভিযুক্তকেই।
👮♀️ পুলিশের পক্ষ থেকে বক্তব্য
🗣️ মোছাঃ আসিফা আফরোজ আদুরি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সি-সার্কেল) বলেন:
> “এসআই শফিকের পেশাদার তদন্তের কারণে আমরা দ্রুত অপরাধীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সক্ষম হয়েছি। কেউই আইনের ফাঁক গলে পালাতে পারবে না।”
🕯️ পরিবারের আহাজারি, সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি
❝ আমরা চাই ফাঁসি ❞
নিহত মাসুদের স্বজন ও পরিবার এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হিসেবে সর্বোচ্চ শাস্তি—ফাঁসি দাবি করেছেন।
👤 মাসুদের মা বলেন:
> “আমার ছেলে তো কোনো অন্যায় করেনি। যারা তাকে হত্যা করেছে, তারা সমাজের জন্য বিপজ্জনক। আমরা চাই আদালত এমন শাস্তি দিক, যাতে আর কোনো বাবা-মা সন্তান হারিয়ে কাঁদতে না হয়।”
📢 এলাকাবাসীর কণ্ঠে একটাই দাবি: “আইনের কঠোর প্রয়োগ চাই”
পীরগাছা উপজেলার সাধারণ জনগণ এই হত্যাকাণ্ডে পুলিশি সাফল্যে প্রশংসা করলেও, তাদের জোরালো দাবি—
> “অপরাধীদের যেন কোনোভাবে ছাড় না দেওয়া হয়। এদের কঠোর শাস্তির মাধ্যমে এলাকাকে মুক্ত করতে হবে দীর্ঘদিনের অপরাধচক্র থেকে।”
✍️ উপসংহার
পীরগাছায় কিশোর মাসুদ মিয়ার হত্যাকাণ্ড আরেকবার চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে— গ্রাম পর্যায়েও অপরাধচক্র কতটা গভীরে প্রবেশ করেছে। তবে পুলিশি তৎপরতা এবং জনমত এই হত্যাকাণ্ডের বিচারে বড় ভূমিকা রাখবে বলেই মনে করছেন সচেতন মহল।