নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তায় গণতন্ত্রের মহোৎসবে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগামীকাল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বিশেষ প্রতিনিধি- জাহারুল ইসলাম জীবন এর বিশেষ নির্বাচনী নিউজ প্রতিবেদন।
১১ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬
অবশেষে দীর্ঘ প্রতীক্ষা আর জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটিয়ে আগামীকাল ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন-২০২৬। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পরবর্তী পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটিই প্রথম সাধারণ নির্বাচন, যা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে বিরাজ করছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। একইসাথে জনগণের রায়ে আগামীর বাংলাদেশ গড়ার এই লড়াইকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে গড়ে তোলা হয়েছে অভূতপূর্ব এক নিরাপত্তার বলয়।
নিরাপত্তার নিশ্ছিদ্র বলয় গড়ে তোলা হয়েছে রাজধানী থেকে প্রান্তিক জনপদ:- নির্বাচন কমিশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীর প্রতিটি অলিগলি থেকে শুরু করে দেশের দুর্গম চরাঞ্চল পর্যন্ত প্রতিটি ভোটকেন্দ্রকে নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের নির্বাচনে কয়েক স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে:
* তিন স্তরের সুরক্ষা:- ভোটকেন্দ্রগুলোতে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের পাশাপাশি স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে মোতায়েন রয়েছে বিজিবি ও র‍্যাব। শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষায় বিশেষ টহলে থাকছে সেনাবাহিনী।
* আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার:- স্পর্শকাতর কেন্দ্রগুলোতে সিসিটিভি ক্যামেরা ও ড্রোন নজরদারির মাধ্যমে সার্বক্ষণিক মনিটরিং করা হচ্ছে।
* সুষ্ঠ ও অবাধ নির্বাচনের লক্ষ্যে নির্বাচন তদারকিতে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত:- নির্বাচনী অপরাধ দমনে মাঠে থাকছেন শত শত নির্বাহী ও জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
সকল ভয়ভীতি উপেক্ষা করে ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান:- সরকার ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সাধারণ জনগণকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। আজ এক ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, “কোনো ধরনের গুজব বা ভয়ভীতিতে কান না দিয়ে নাগরিকরা যেন তাদের পছন্দসই ও যোগ্য প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারেন, তার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।”
বিশেষ করে নারী ও নতুন ভোটারদের নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সহায়তা কেন্দ্র খোলা হয়েছে। রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে বসানো হয়েছে তল্লাশি চৌকি, যেন কোনো বহিরাগত শক্তি নির্বাচনী পরিবেশ বিঘ্নিত করতে না পারে।
এক নজরে নির্বাচনী প্রস্তুতি:
ভোটগ্রহণ শুরু- সকাল ৭:৩০ মিনিট।
ভোটগ্রহণ শেষ- বিকাল ৪:৩০ মিনিট।
মোট ভোটকেন্দ্র- ৪২,৭৭৯টি।
নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য- প্রায় ৯ লাখ ৫৮ হাজার।
অংশগ্রহণকারী দল- ৫০টি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল।
গণতন্ত্রের উৎসবে ফেরার প্রতিক্ষায় দেশের সাধারণ জনগণ:- সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারা দীর্ঘ বিরতির পর একটি সুস্থ, সুন্দর ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোট দেওয়ার জন্য মুখিয়ে আছেন। রাজধানীর একটি কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা উদীয়মান নতুন তরুণ ভোটার তানজিম বলেন, “আমরা চাই আমাদের ভোটটা যেন সঠিকভাবে পড়ে এবং দেশের উন্নয়নে যারা ভূমিকা রাখবে তারাই যেন জয়ী হয়।”
প্রশাসনের কঠোর নজরদারি আর জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আগামীকাল একটি উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন হবে- এমনটাই প্রত্যাশা করছেন দেশের সচেতন নাগরিক সমাজ।

শেয়ার করুনঃ